কাঁঠাল খাওয়ার পর পাকা কোষগুলো পেটে চালান হলেও এর বীজগুলো সাধারণত ডাস্টবিনেই জায়গা পায়। অনেকে আবার তরকারি হিসেবে রান্না করে বা ভেজেও খায়। এই বীজেই রয়েছে দারুণ এক সম্ভাবনা। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জিএইউ) গবেষকেরা এবার ফেলে দেওয়া সেই কাঁঠালের বীজ নিয়ে চমৎকার এক গবেষণা করে তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন!
কাঁঠালের বীজ থেকে খনিজ ঘনীভূত উপাদান তৈরির অভিনব প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন তাঁরা। আর এই আবিষ্কারের জন্যই মিলেছে পেটেন্টের স্বীকৃতি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্পনকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) সম্প্রতি এই প্রযুক্তির পেটেন্ট মঞ্জুর করেছে। অসাধারণ এই উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. এমদাদুল হক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষক মো. আকরাম হোসেন।
গবেষকদের মতে, শুকনো কাঁঠালের বীজে প্রাকৃতিকভাবে মোটে ২ শতাংশের মতো খনিজ উপাদান থাকে গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, শুকনো কাঁঠালের বীজে প্রাকৃতিকভাবে মোটে ২ শতাংশের মতো খনিজ উপাদান থাকে। কিন্তু অধ্যাপক এমদাদুল ও তাঁর সহযোগীর নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে সেই খনিজের পরিমাণ বেড়ে পৌঁছে গেছে ৩৩ শতাংশের বেশিতে! অর্থাৎ খনিজের ঘনত্ব বেড়েছে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
অধ্যাপক এমদাদুল ও তাঁর সহযোগীর নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে শুকনো কাঁঠালের বীজে খনিজের পরিমাণ বেড়ে পৌঁছে গেছে ৩৩ শতাংশের বেশিতে! অর্থাৎ খনিজের ঘনত্ব বেড়েছে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ।
গবেষকদের পরিকল্পনা হলো, প্রক্রিয়াজাত খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়াতে এই ঘনীভূত খনিজ ব্যবহার করা। গবেষকদের আশা, এর মাধ্যমে পুষ্টিহীনতা মোকাবিলায় সহায়ক নতুন খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় এটি একটি বিরাট সুখবর। জিএইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জি কে এম মুস্তাফিজুর রহমান এই সাফল্যকে বাংলাদেশের কৃষি ও পুষ্টি গবেষণার এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
উদ্ভাবক অধ্যাপক এমদাদুল হক মনে করছেন, এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রসার ঘটলে বাজারে নতুন ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার আসবে। তেমনি কাঁঠালের নতুন শিল্পের হাত ধরে কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. এমদাদুল হক নতুন এই পেটেন্ট যুক্ত হওয়ায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুলিতে এখন মোট ২১টি পেটেন্ট জমা হলো। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকদের উদ্ভাবিত উন্নত ফসলের জাতের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৯৭টিতে।
লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার