শরীর যখন ডায়াবেটিসের ইশারা দেয়: লক্ষণগুলো চিনে নিন সময় থাকতে
আজকালকার ব্যস্ত জীবনে ক্লান্তি বা একটু-আধটু শরীর খারাপকে আমরা অনেকেই পাত্তা দিতে চাই না। কিন্তু এই ছোটখাটো অবহেলাই অনেক সময় ডেকে আনে বড় বিপদ। ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগও ঠিক তেমনি একটি সমস্যা, যা শরীরে নিঃশব্দে বাসা বাঁধে। চিকিৎসকেরা একে বলেন ‘সাইলেন্ট কিলার’। তবে রোগটি পুরোপুরি চেপে বসার আগে শরীর কিন্তু নিজে থেকেই কিছু না কিছু সংকেত বা ইশারা দিতে শুরু করে। লক্ষণগুলো জানা থাকলে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, শরীরের ঠিক কোন কোন পরিবর্তনগুলো দেখলে আপনার একটু বাড়তি সতর্ক হওয়া উচিত।
১. বারবার বাথরুমে দৌড়ানো এবং গলা শুকিয়ে যাওয়া
ডায়াবেটিসের সবচেয়ে চেনা লক্ষণ হলো ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া। বিশেষ করে রাতের বেলা ঘুমানোর পর যদি বারবার ওলটপালট করে উঠতে হয়, তবে বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনি বা বৃক্ক সেই বাড়তি শর্করা শরীর থেকে ছেঁকে বের করে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত কাজ শুরু করে। আর প্রস্রাব বেশি হওয়ার কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, যার ফলে তীব্র পানির পিপাসা পায় এবং বারবার গলা শুকিয়ে আসে।
২. খাওয়ার পরেও পেট না ভরা এবং সারাক্ষণ ক্লান্তি
আমরা যা খাই, শরীর তা থেকে শক্তি তৈরি করে। কিন্তু ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিনের গোলমালের কারণে শরীরের কোষগুলো সেই খাবার থেকে শক্তি জোগাতে পারে না। ফলে ভরপেট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ক্ষুধা পেয়ে যায়। একই কারণে শরীর তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি বা এনার্জি পায় না, যার ফলে কোনো ভারী কাজ না করেও সারাক্ষণ একটা চরম ক্লান্তি, অলসতা বা দুর্বলতা শরীরে ভর করে থাকে।
৩. ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
অনেকেই হুট করে ওজন কমতে দেখলে খুশি হয়ে যান। কিন্তু ডায়েটিং বা কোনো ধরনের শরীরচর্চা ছাড়াই যদি হঠাৎ করে শরীর শুকিয়ে যেতে শুরু করে, তবে তা চিন্তার বিষয়। যখন কোষগুলো সুগার থেকে শক্তি পায় না, তখন শরীর বাধ্য হয়ে নিজের ভেতরে জমা থাকা চর্বি এবং মাংসপেশি পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করতে থাকে। এর ফলে খুব দ্রুত ওজন কমতে শুরু করে।
৪. চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে আসা
মাঝেমধ্যেই চোখের সামনে সবকিছু কেমন যেন ঝাপসা বা ঘোলাটে লাগে? রক্তে শর্করার ওঠানামার কারণে চোখের লেন্সের চারপাশের তরল উপাদানে তারতম্য ঘটে। এতে চোখের স্বাভাবিক ফোকাস করার ক্ষমতা কমে যায়। অনেকেই একে চোখের সাধারণ পাওয়ারের সমস্যা মনে করে ভুল করেন।
৫. ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া সহজে না শুকানো
রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে হাত কেটে যাওয়া কিংবা পায়ে সামান্য একটু হোঁচট লাগা খুবই সাধারণ বিষয়। কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে এই সাধারণ ক্ষত বা আঘাতই সহজে শুকাতে চায় না। রক্তে সুগারের আধিক্যের কারণে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায় এবং শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিকঠাক কাজ করতে পারে না। ফলে যেকোনো ঘা বা ইনফেকশন সারতে অনেক বেশি সময় নেয়।
৬. হাত-পায়ে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন করা
রক্তে দীর্ঘদিন ধরে চিনির মাত্রা বেশি থাকলে তা শরীরের সূক্ষ্ম স্নায়ু বা নার্ভগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে হাত বা পায়ের পাতায় রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক সময় মনে হতে পারে পায়ে কেউ সুঁই ফোটাচ্ছে, কিংবা হাত-পা আচমকা অবশ ও ঝিনঝিন করে উঠতে পারে।