চুল পড়া বর্তমান সময়ে আমাদের সবার জন্যই খুব বড় একটা দুশ্চিন্তার কারণ। প্রতিদিন সকালে বালিশে বা গোসলের সময় চিরুনিতে গোছা গোছা চুল দেখলে মনটাই খারাপ হয়ে যায়। তবে বাজারে হাজারটা দামি কেমিক্যাল বা শ্যাম্পু না খুঁজে, লাইফস্টাইলে ছোট কিছু পরিবর্তন আর ঘরোয়া যত্নেই কিন্তু চুল পড়া অনেকখানি কমিয়ে ফেলা সম্ভব।
চলুন একদম সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক কীভাবে আপনার চুল পড়া বন্ধ করতে পারেন:
সবচেয়ে আগে নজর দিতে হবে তেলের ব্যবহারে। চুলে পুষ্টি জোগাতে খাঁটি নারকেল তেল বা ক্যাস্টর অয়েলের কোনো বিকল্প নেই। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তেল হালকা গরম করে আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে (স্ক্যাল্প) ম্যাসাজ করুন। এতে মাথার রক্ত চলাচল বাড়ে, যা চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়া পেঁয়াজের রস চুলের জন্য দারুণ কাজ করে। পেঁয়াজের রসে থাকা সালফার নতুন চুল গজাতে এবং চুল পড়া বন্ধ করতে জাদুর মতো কাজ করে। সপ্তাহে একদিন পেঁয়াজের রস মাথায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
আমরা অনেকেই একটা বড় ভুল করি গোসলের পর ভেজা চুল আঁচড়ানো। ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া সবচেয়ে নরম থাকে। ওই সময় চিরুনি চালালে চুল সবচেয়ে বেশি উপড়ে আসে। তাই চুল পুরোপুরি শুকানোর পর চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে নিচ থেকে আঁচড়ানো শুরু করুন। আর প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু বাদ দিয়ে মৃদু বা হার্বাল শ্যাম্পু বেছে নিন।
শুধু ওপর থেকে যত্ন নিলেই হবে না, চুলের আসল পুষ্টি আসে ভেতর থেকে। আপনি যদি প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন (যেমন ডিম, মাছ, মাংস) এবং শাকসবজি না রাখেন, তবে চুল পুষ্টির অভাবে ঝরে যাবেই। বিশেষ করে ভিটামিন-ই এবং আয়রনযুক্ত খাবার চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এর পাশাপাশি সারাদিনের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমানো এবং রাতে ৭-৮ ঘণ্টা শান্তির ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কারণ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আর অনিদ্রা চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
সবশেষে একটা কথা মনে রাখা দরকার, প্রতিদিন স্বাভাবিক নিয়মেই ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়তে পারে, এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে যদি মাথার কোনো অংশ ফাঁকা হয়ে যায় বা অতিরিক্ত চুল পড়ে, তবে দেরি না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়া উচিত।