জ্বর হলে গোসল করা যাবে না এই ধারণাটি আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, যা আসলে একদমই সত্যি নয়। চিকিৎসকদের মতে, জ্বর হলে গোসল করা শুধু নিরাপদই নয়, বরং এটি শরীরের তাপমাত্রা কমাতে দারুণ সাহায্য করে।
আসলে শরীরে জ্বর থাকলে আমাদের সবারই খুব অস্বস্তি লাগে, গা ম্যাচ ম্যাচ করে। এমন অবস্থায় গোসল করলে শরীর যেমন পরিষ্কার হয়, তেমনি ভেতরের ক্লান্তি ভাবটা কেটে গিয়ে অনেক আরাম পাওয়া যায়। তবে জ্বরের সময় গোসল করার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ভুল ধারণা বা অভ্যাস আছে, যা বদলে ফেলা দরকার।
সবচেয়ে বড় ভুলটি আমরা করি অতিরিক্ত ঠান্ডা বা বরফ পানি ব্যবহার করে। অনেকেই মনে করেন গায়ের উত্তাপ কমাতে ঠান্ডা পানি মাথায় ঢালা ভালো, কিন্তু বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী এটি উল্টো ক্ষতি করে। হুট করে ঠান্ডা পানি শরীরে লাগলে শরীর কাঁপতে শুরু করে। আর শরীর যখন কাঁপে, তখন ভেতরের পেশিগুলো আরও বেশি তাপ তৈরি করে, যার ফলে জ্বর কমার বদলে উল্টো বেড়ে যায়। তাই জ্বর থাকলে সবসময় হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করা উচিত।
গোসল করার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:
* বাথরুমে গিয়ে বেশি সময় কাটাবেন না, ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে দ্রুত শরীর ধুয়ে বের হয়ে আসুন।
* গোসল থেকে বের হয়েই ভেজা শরীরে ফ্যানের নিচে দাঁড়াবেন না। শুকনো নরম তোয়ালে দিয়ে মাথা ও শরীর খুব ভালো করে মুছে চটপট শুকনো জামাকাপড় পরে নিন।
* শরীর যদি খুব বেশি দুর্বল থাকে যে উঠে বাথরুমে যাওয়ার মতো শক্তি নেই, তবে জোর করে গোসল করার কোনো দরকার নেই। সেক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে একটি পরিষ্কার গামছা বা সুতি কাপড় ভিজিয়ে পুরো শরীরটা কয়েকবার ভালো করে মুছে দিতে পারেন। একে "স্পঞ্জিং" বলা হয় এবং এতেও জ্বরের উত্তাপ খুব দ্রুত নেমে আসে।
তবে একটা কথা মনে রাখা জরুরি, গোসল করলে বা গা মুছে দিলে সাময়িকভাবে শরীর ঠান্ডা হয় এবং আরাম লাগে, কিন্তু এটি কিন্তু রোগ সারানোর কোনো ওষুধ নয়। তাই জ্বর বেশি হলে বা কয়েক দিনেও না কমলে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ খাওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
মেডিকেল ডিসক্লেইমার: এই লেখায় দেওয়া তথ্যগুলো শুধুমাত্র সাধারণ সচেতনতা বাড়ানোর জন্য। এটি কোনোভাবেই ডাক্তারের সরাসরি প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে বা জ্বর না কমলে অবশ্যই দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।