পিপড়া কিন্তু রোদে এত সহজে মরে না, কারণ তাদের শরীরের আকার খুব ছোট। ছোট আকারের কারণে তারা খুব দ্রুত তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং গরম লাগলেই তারা দ্রুত ছায়ায় বা মাটির নিচে চলে যায়। তাই সরাসরি রোদে কিছুক্ষণ থাকলেও তাদের খুব একটা ক্ষতি হয় না। কিন্তু কাঁচের নিচে রেখে দিলে ব্যাপারটা অনেক অন্য রকম হয়ে যায়। কাঁচ সূর্যের আলোকে ভেতরে ঢুকতে দেয়, কিন্তু ভেতরের তাপকে বেরোতে দেয় না। এতে কাঁচের নিচে একটা গ্রিনহাউসের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। সেই ছোট্ট জায়গার ভেতরে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে, আর একসময় তা এত বেশি হয়ে যায় যে পিপড়া সহ্য করতে পারে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই পিপড়ার শরীরের পানিশূন্যতা শুরু হয় আর তারা মারা যায়। এ ছাড়া কাঁচের নিচে বাতাস চলাচল কম থাকায় তারা অক্সিজেনও কম পায়। তাই পিপড়া সরাসরি রোদে বাঁচলেও কাঁচের নিচে বাঁচতে পারে না। আরেকটা বিষয় হলো, রোদে পিপড়া যদি বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে সেও মারা যেতে পারে—কিন্তু তারা রোদে অনেক সময় থাকে না। আসলে কাঁচের নিচের তাপমাত্রা রোদের চেয়েও বেশি হয়ে যায়, আর সেটাই তাদের জন্য মারাত্মক। তাই কাঁচের নিচে পিপড়া মারা যায় বলে অনেকেই মনে করে পিপড়া রোদে মরে না, কিন্তু আসলে রোদেও মরে যদি অনেকক্ষণ থাকে।