যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। কিন্তু সব মুসলিমের ওপরই কি যাকাত ফরজ? না। যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত আছে। সহজ ভাষায় বলি—
যাদের ওপর যাকাত ফরজ
১. মুসলিম হওয়া: যাকাত শুধু মুসলিমদের ওপর ফরজ।
২. বালেগ ও সুস্থ মস্তিষ্কের হওয়া: যে শিশু বা পাগল, তাদের ওপর যাকাত ফরজ নয়। তবে অভিভাবক তাদের পক্ষ থেকে দিতে পারেন।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া: যার কাছে সোনা-রুপা বা টাকা-পয়সা এমন পরিমাণ আছে যা এক বছর ধরে তার কাছে থাকে, তার ওপর যাকাত ফরজ। নিসাব হলো—সোনার ক্ষেত্রে ৭.৫ ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম) বা রুপার ক্ষেত্রে ৫২.৫ তোলা (৬১২.৩৬ গ্রাম) অথবা তার সমমূল্যের টাকা বা ব্যবসায়িক পণ্য।
৪. ঋণমুক্ত হওয়া: যদি কারো কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে কিন্তু তার সমপরিমাণ বা তার বেশি ঋণ থাকে, তাহলে তার ওপর যাকাত ফরজ নয়।
৫. এক বছর পার হওয়া: সম্পদ পাওয়ার পর এক বছর সম্পূর্ণ হলে তবেই যাকাত ফরজ হয়। এক বছর পূর্ণ না হলে যাকাত দিতে হয় না।
কাদের যাকাত দিতে হবে না?
-
যে ব্যক্তির কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই
-
যার কাছে সম্পদ আছে কিন্তু এক বছর হয়নি
-
যার ঋণ আছে এবং তা সম্পদের সমান বা বেশি
একটা সহজ উদাহরণ
ধরুন, আপনার কাছে ১০ ভরি সোনা আছে এবং তা এক বছর ধরে আপনার কাছে আছে, আপনার কোনো ঋণ নেই—তাহলে আপনার ওপর যাকাত ফরজ। আর যদি আপনার কাছে মাত্র ২ ভরি সোনা থাকে, তাহলে যাকাত ফরজ নয়।
মনে রাখবেন
যাকাত শুধু টাকা-সোনার ওপরই নয়, ব্যবসার পণ্য, গবাদি পশু, কৃষি ফসলের ওপরও যাকাত দিতে হয়। তবে সবচেয়ে সহজ কথা—যদি আপনার কাছে এক বছর ধরে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে বুঝবেন যাকাত আপনার ওপর ফরজ হয়েছে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে যাকাত দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।